প্রযুক্তি

স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ: ফোল্ডেবল ডিসপ্লে, এআই প্রসেসর এবং স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটির বিপ্লব

গত এক দশকে স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তবে একটি সাধারণ চারকোনা গ্লাসের স্ক্রিনের বাইরে স্মার্টফোনের ডিজাইনে দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অবশেষে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো সেই একঘেয়েমি কাটাতে নিত্যনতুন ডিজাইন এবং অত্যাধুনিক হার্ডওয়্যারের দিকে ঝুঁকছে। যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন। সাধারণ ফোনের চেয়ে বড় স্ক্রিন এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।
স্যামসাং, গুগল থেকে শুরু করে চায়নিজ ব্র্যান্ডগুলো প্রতি বছর আগের চেয়ে উন্নত এবং মজবুত ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনছে। স্ক্রিন প্রযুক্তির এই উন্নয়নের ফলে এখন ফোনগুলো ভাঁজ করলে সাধারণ সাইজের থাকে এবং খুললে ছোটখাটো ট্যাবলেটে পরিণত হয়। ডিসপ্লে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ‘রোলেবল’ বা গোটানো যায় এমন স্ক্রিনের ফোনও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে চলে আসবে, যা ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটের ধারণাকেও পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

স্মার্টফোনের আরেকটি বড় চমক হলো স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি বা কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা। এখন দুর্গম পাহাড় বা সমুদ্রে গেলে সেলুলার নেটওয়ার্ক হারানোর ভয় অনেকটাই কমে আসছে। নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনগুলোতে এমন স্পেশাল অ্যান্টেনা ও চিপ যুক্ত করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সাধারণ টাওয়ারের আওতার বাইরে থাকলেও সরাসরি স্যাটেলাইটের সাহায্যে জরুরি মেসেজ বা এসওএস (SOS) সিগন্যাল পাঠানো সম্ভব। অ্যাপল ইতিমধ্যে এই সুবিধা ব্যাপকভাবে চালু করেছে এবং অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড কোম্পানিগুলোও পিছিয়ে নেই।
হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি মোবাইল প্রসেসরে যুক্ত হয়েছে ডেডিকেটেড এআই চিপ বা নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট (NPU)। এর মানে হলো, আপনার ফোন এখন ইন্টারনেটের সাহায্য ছাড়াই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অনেক কাজ সরাসরি ডিভাইসের ভেতরেই করতে পারবে। লাইভ কল ট্রান্সলেশন, ছবি থেকে অবাঞ্ছিত বস্তু সরিয়ে ফেলা, এবং ভয়েস কমান্ডকে আরও নিখুঁতভাবে বোঝার মতো কাজগুলো এখন ফোনের নিজস্ব এআই সিস্টেম চোখের পলকে করে দিচ্ছে।
মোবাইল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোনের পরবর্তী বড় পরিবর্তন আসবে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে। বর্তমানে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বদলে ‘সলিড-স্টেট ব্যাটারি’ নিয়ে জোর গবেষণা চলছে। এই ব্যাটারিগুলো আকারে ছোট হলেও অনেক বেশি চার্জ ধরে রাখতে সক্ষম এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকিও নেই বললেই চলে। এই প্রযুক্তি সফল হলে স্মার্টফোন একবার ফুল চার্জ দিয়ে অনায়াসে কয়েক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে, যা বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম বড় একটি মাইলফলক হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button