বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন: প্রযুক্তি বিশ্বে বড় পরিবর্তনের আভাস
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং প্রভাব বিস্তারকারী প্রযুক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই কিংবা মিডজার্নির মতো শক্তিশালী এআই টুলগুলো মানুষের দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে করপোরেট প্রজেক্ট, কোডিং, এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার হিসাব-নিকাশও কয়েক সেকেন্ডে সমাধান করে দিচ্ছে। এই অভূতপূর্ব প্রযুক্তি একদিকে যেমন কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়েছে, তেমনি অন্যদিকে তৈরি করেছে নানা ধরনের আইনি ও নৈতিক বিতর্ক। এর অপরিসীম ক্ষমতার কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ প্রযুক্তিবিদেরাও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
এআই প্রযুক্তির ডার্ক সাইড বা নেতিবাচক দিকগুলো ইতিমধ্যেই সামনে আসতে শুরু করেছে। ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে ভুয়া খবর ছড়ানো, আর্টিস্ট বা লেখকদের অনুমতি ছাড়াই তাদের কাজ ব্যবহার করে কপিরাইট লঙ্ঘন করা এবং সাইবার অপরাধে এআইয়ের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। এর পাশাপাশি, অটোমেশনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এআই প্রযুক্তিকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে।
এরই প্রেক্ষিতে, এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো নতুন আইন প্রণয়নের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি বিস্তৃত ‘এআই আইন’ বা AI Act পাস করেছে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো এআই সিস্টেমগুলোকে তাদের ঝুঁকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা। যেসব এআই সিস্টেম মানুষের মৌলিক অধিকার বা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, সেগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপের দেখাদেখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপানও নিজস্ব এআই নীতিমালা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাপান সরকার ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোর জন্য বেশ কিছু গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যাতে উদ্ভাবন এবং নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। বিশেষ করে কপিরাইট সুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের ডেটা প্রাইভেসি নিশ্চিত করার ওপর জাপান জোর দিচ্ছে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা কঠোর আইনের কারণে এআই গবেষণার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে। গুগলের মতো টেক জায়ান্টরা আইন মানতে রাজি থাকলেও, তারা চাইছে আইনটি যেন এমন হয় যা নতুন উদ্ভাবনের পথ বন্ধ না করে দেয়। আগামী কয়েক বছরে এই এআই আইনগুলো কীভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কীভাবে এর সাথে মানিয়ে নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ রূপরেখা।