বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি: পাসওয়ার্ডের যুগ শেষ করে আসছে নতুন ‘পাসকি’ প্রযুক্তি
আমাদের জীবন যত বেশি ডিজিটাল হচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও তত মারাত্মক আকার ধারণ করছে। হ্যাকাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ, এবং তারা হামলার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি ডাটাবেস থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট—সবকিছুই এখন প্রতিনিয়ত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে র্যানসমওয়্যারের (Ransomware) আক্রমণ বিশ্বজুড়ে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
র্যানসমওয়্যার হামলায় হ্যাকাররা কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে সব ডেটা এনক্রিপ্ট বা লক করে দেয়, এবং পরে সেই ডেটা ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ বা র্যানসম দাবি করে। আধুনিক ফিশিং ইমেইলগুলো এত নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয় যে, অনেক অভিজ্ঞ আইটি কর্মীরাও বুঝতে না পেরে ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করে ফেলেন, যার ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক হ্যাকারদের দখলে চলে যায়।
এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বাঁচাতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। দশকের পর দশক ধরে আমরা অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় যে ‘পাসওয়ার্ড’ ব্যবহার করে আসছি, তা ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ছে। মানুষ সাধারণত মনে রাখার সুবিধার্থে সহজ পাসওয়ার্ড দেয় অথবা একই পাসওয়ার্ড সব জায়গায় ব্যবহার করে, যা হ্যাকারদের জন্য ডেটা চুরি করা খুব সহজ করে দেয়। তাই প্রযুক্তি বিশ্ব এখন পাসওয়ার্ডবিহীন বা ‘Passwordless’ ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
পাসওয়ার্ডের অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে ইতিমধ্যে ‘পাসকি’ (Passkey) প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। গুগল, অ্যাপল এবং মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা একজোট হয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। পাসকি সিস্টেমে আপনাকে কোনো অক্ষর বা নম্বর মনে রাখতে হয় না। আপনার ফোনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বা ফেস আনলক ফিচারটিই আপনার অ্যাকাউন্টের চাবি হিসেবে কাজ করে। যেহেতু এই চাবিটি শুধু আপনার ডিভাইসেই থাকে এবং ইন্টারনেটে পাঠানো হয় না, তাই হ্যাকারদের পক্ষে এটি দূর থেকে চুরি করা বা হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব।
সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য সাইবার বিশেষজ্ঞরা সবসময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেকোনো অ্যাকাউন্টে অবশ্যই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখতে হবে। এছাড়াও অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখা এবং অচেনা কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে যাচাই করে নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলো খুব সহজেই বড় ধরনের সাইবার বিপদ থেকে আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।