জাপানের ব্যাংকে অবৈধ লেনদেন সম্পর্কিত নতুন আইন

জাপানে ব্যাংকে অবৈধ লেনদেন
শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ ইয়েন জরিমানা
• হুন্ডি, ব্ল্যাক মানি, অবৈধ লেনদেন, জালিয়াতির বিষয়ে সকলের সচেতন হওয়া জরুরী॥
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেনাবেচার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির অনুমোদন দিল জাপান সরকার
টোকিও:
জাপানের মন্ত্রিসভা অপরাধমূলক আয়ের বিরুদ্ধে আইনে সংশোধনী আনার একটি বিল অনুমোদন দিয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কেনাবেচার জন্য শাস্তি আরও কঠোর করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণাজনিত ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মানি লন্ডারিং দমনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা ও ঢিলেঢালাভাবে সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর করে, যাতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার চলমান ডায়েট অধিবেশনে এই বিলটি উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এতে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, পুলিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ভুয়া নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে এবং অপরাধী চক্রগুলোকে অনলাইনে এসব অ্যাকাউন্ট বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে অবৈধ অর্থ জমা দিতে প্রলুব্ধ করবে।
এই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে পুলিশ অর্থের গতিপথ ট্র্যাক করতে পারবে এবং যারা সরাসরি এসব অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়েছেন, তাদের অর্থ ফেরত দিতে সহায়তা করবে। বাকি অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
গত বছর বিনিয়োগ প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ রেকর্ড ৩২৪.১ বিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছায়।
ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট গড়ে প্রায় ৩৫,০০০ ইয়েনে অবৈধভাবে কেনাবেচা হয়েছে।
একই বছরে অপরাধমূলক আয়ের স্থানান্তর প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪,৩৬২টি, যা ২০১১ সালের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি—এতে সমস্যাটির গুরুতর বৃদ্ধি স্পষ্ট।
সংশোধিত আইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অবৈধ লেনদেনের শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ ইয়েন জরিমানার পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ ইয়েন জরিমানা করা হবে।
এছাড়া, অপরাধী চক্রের অনুরোধে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার অর্থ স্থানান্তর করে বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকারীরা সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৩০ লাখ ইয়েন জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।



