রাজনীতি

সরকার কি গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়?

**গুমের বিষয়ে আইনমন্ত্রী সংসদে সরাসরি অসত্য বলেছেন: সরকার কি গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়?**

গুমের অধ্যাদেশ ল্যাপ্স করে কেন আগামী রবিবার থেকে সরকার দেশে গুমের সংজ্ঞাই বিলুপ্ত করে দিচ্ছে আমার এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল আইনমন্ত্রী বলেন, ICT আইনে গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা গুমের শিকারদের প্রতি অবিচার। তাই নাকি এখন গুমের আইন ল্যাপ্স করা বাঞ্ছনীয়।

গুম অধ্যাদেশের ধারা ৪(২)-এ লেখা আছে: “উক্ত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্য কোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।” অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান অধ্যাদেশে ক্লিয়ারলি আছে।

সুতরাং সরকার মিথ্যা অজুহাতে গুমের আইন বিলুপ্ত করে আবার গুমের পথ সুগম করছে। এতে শুধু আমাদের সাথে না, বিএনপির শত শত ভুক্তভোগীদের প্রতিও বেইনসাফি হচ্ছে।

আরেকটা কথা: ICT আইন শুধু widespread ও systematic মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। ব্যাপক হারে গুম হওয়া আর বিচ্ছিন্নভাবে গুম হওয়ার ভেতর মাত্রাভেদে সাজার পার্থক্য আইনে আছে।  ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নভাবে গুম ঘটলে সেই বিচার ICT আইনে হবে না, তখন আলাদা গুম আইনই একমাত্র ভরসা, ICT কিছুই করতে পারবে না। তবে শুধু আইন থাকলেই হবে না — স্বাধীন তদন্ত ছাড়া আইন অর্থহীন। সেই তদন্তের ক্ষমতা দিতেই মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ দরকার, যেটাও সরকার পাস করতে দিচ্ছে না।

তাহলে বিএনপি সরকার কি আবারও গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়?

আমাদের দাবি – অধ্যাদেশগুলো পাস করেন। পরিবর্তন করতে চাইলে, সংশোধনী পরে এনেন। কিন্তু রবিবার থেকে আইনি শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button